উচ্চমাধ্যমিকের চতুর্থ বিষয় নির্বাচন: ব্যবসায় শিক্ষা শাখা

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবারে শুনে নাও!

কলেজে ভর্তির ফর্ম পূরণ করতে গিয়ে যেই ফিল্ডে ব্যবসায় শিক্ষা শাখার বেশিরভাগ শিক্ষার্থীকে দোটানায় পড়তে হয় সেটা হচ্ছে, ‘চতুর্থ বিষয়’। তাই এখন এই বিষয়টা নিয়ে কিছু কথা বলব এবং আমার বিশ্বাস যে কথাগুলো উপকারে আসবে।

তৃতীয় বিষয় হিসেবে কোনটা বেশি পছন্দনীয়?

উচ্চমাধ্যমিকে সাধারণত দুইটা বিষয় নিজের পছন্দমত নির্বাচন করতে হয়; তৃতীয় এবং চতুর্থ। প্রথমেই তৃতীয় বিষয় নিয়ে কিছু বলা যাক। বর্তমানে প্রায় সব কলেজেই তৃতীয় বিষয় হিসেবে ফিন্যান্স অথবা মার্কেটিং থেকে একটা নির্বাচন করতে হয়। অনেক কলেজে আবার ফিন্যান্স কিংবা মার্কেটিং এর মাঝে থেকে যেকোনো একটা আবশ্যক করে দেয়া থাকে। কলেজে আবশ্যকতা থাকুক বা না থাকুক আমি অবশ্যই বলব এই দুইটার থেকে যেকোনো একটি বিষয় অবশ্যই নির্বাচন করতে কেননা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ ইউনিটে এখন ফিন্যান্স অথবা মার্কেটিং যেকোনো একটা বিষয়ের প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় আর যদি আগে থেকে এই দুইটার একটা বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান না থাকে তাহলে উচ্চমাধ্যমিকের পর মাত্র ৩ মাসে তা অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়ে।

খুব সহজেই মার্কেটিং শিখে নাও আমাদের এই মার্কেটিং প্লে-লিস্টটি  থেকে!

এখন, ফিন্যান্স পড়বে না মার্কেটিং পড়বে তা পুরোপুরি তোমার পারদর্শিতার উপর নির্ভর করে। ফিন্যান্স, মার্কেটিং দুইটাই কিন্তু অনেক ভাল বিষয় তবে ফিন্যান্স, মার্কেটিং এর তুলনায় একটু জটিল।  ফিন্যন্সের ভিত্তি হচ্ছে গণিত এবং গাণিতিক সূত্র। যদি তুমি গণিতে পারদর্শী হও, একটা বিষয়ের পেছনে অনেক সময় ব্যয় করার মত ধৈর্য তোমার থাকে তাহলে ফিন্যান্স তোমার জন্য বেস্ট অপশন। কিন্তু তুমি যদি মনে কর যে, তুমি গণিতে ততটা ভাল নও, তাহলে তোমার মার্কেটিং নেয়া উচিৎ কারণ মার্কেটিং এ জটিলতা ফিন্যান্সের তুলনায় একটু কম এবং বিষয়টা ইন্টারেস্টিং। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় তুমি কোন বিষয়ের উত্তর দিচ্ছ তার উপর পরবর্তিতে তোমার সাব্জেক্ট সিলেকশন নির্ভর করেনা।

চতুর্থ বিষয়ের সলা-পরামর্শ

এখন চতুর্থ বিষয় নিয়ে বলা যাক। চতুর্থ বিষয় সম্পর্কে প্রথমেই যেটা বলব সেটা হচ্ছে, ইন্টার লাইফে তোমরা অনেককেই বলতে শুনবে যে এই সাব্জেক্টটা নাও, পরে বিবিএতে গেলে এর একটা কোর্স পাবে,  ঐটা নিওনা, ঐটার কোনো কাজ নেই- এরকম আরো অনেক কিছু। কিন্তু সত্য বলতে কি, এখন যেই বিষয় পড়বে সেটা শুধুমাত্র তোমার বেসিকটাকে ডেভেলপ করবে এই যা। আর উচ্চমাধ্যমিকের বইয়ে যেই বিষয়বস্তুগুলো থাকবে সেগুলো পরে যেকোনো কোর্সের শুরুতেই আবার পড়ানো হবে তাই ভবিষ্যতে কি হবে তা নিয়ে না ভেবে যদি কোন বিষয় নিলে এই দুই বছর তোমার সুবিধা হবে তা ভাব তাহলে সেটা বুদ্ধিমানের মত কাজ হবে বলে আমার ধারণা। কারণ, ইন্টার লাইফটা অনেক ছোট কিন্তু সিলেবাসটা  অনেক বড় তাই না বুঝে এমন কোনো বিষয় নিবেনা যার জন্য পরে কষ্ট করতে হয়।

বিভিন্ন কলেজে চতুর্থ বিষয় হিসেবে বিভিন্ন ধরনের বিষয় রাখা হয়। এর মাঝে কয়েকটি বিষয় রয়েছে যা সাধারণত কম বেশি সকল কলেজেই থাকে সেগুলো হচ্ছে, পরিসংখ্যান, অর্থনীতি, সাচিবিক বিদ্যা, গার্হস্থ অর্থনীতি এবং কৃষিশিক্ষা। এ বিষয়গুলোকে এখন বিশ্লেষণ করা যাক।

মজায় মজায় ইংরেজি শিখ!

তোমার স্বপ্নের পথে পা বাড়ানোর ক্ষেত্রে তোমার ইংরেজির জ্ঞান কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে!

তাই আর দেরি না করে, আজই ঘুরে এস ১০ মিনিট স্কুলের এই এক্সক্লুসিভ প্লে-লিস্টটি থেকে!

১০ মিনিট স্কুলের ইংরেজি ভিডিও সিরিজ

১। পরিসংখ্যান (Statistics):

পরিসংখ্যানকেও ফিন্যান্সের মত গাণিতিক বিষয় বলা যায়। পরিসংখ্যান যদি না বুঝে পড় তবে একটু জটিল লাগবে কিন্তু শুরু থেকেই যদি ঠিক মত পড়তে পার তবে পরিসংখ্যান খুবই ইন্টারেস্টিং একটা বিষয় বলে মনে হবে। এখন আমাকে যদি প্রশ্ন করা হয় যে, পরিসংখ্যান নেয়া উচিৎ কিনা তাহলে আমি দুই ধরণের মতামত দিব। প্রথমত, ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থীদের পুরো দুই বছর গণিতের সাথে সম্পর্কটা কম থাকে কিন্তু ভবিষ্যতে বিভিন্ন পরীক্ষার জন্য নতুন করে গণিত চর্চা করতে হয়। তাই পরিসংখ্যান পড়লে গণিতের ভিত্তিটা নষ্ট হয়ে যাবে না। দ্বিতীয়ত, পরিসংখ্যান অনেক অনুশীলন করার মত একটা বিষয়। উচ্চমাধ্যমিকে কিন্তু হিসাববিজ্ঞান, ফিন্যান্স(যদি নাও), আইসিটি সহ কিছু তাত্ত্বিক বিষয় আছে যেগুলো অনেক পড়তে হবে আর যেহেতু উচ্চমাধ্যমিকে সময়টা অনেক কম, তো পরিসংখ্যান না নিলে এই বিষয়গুলো পড়ার জন্য অনেক সময় বেঁচে যাবে।

15086409_10154245727987515_2070850464_n

২। অর্থনীতি (Economics):

অর্থনীতিও গাণিতিক বিষয়। এখানকার গণিতগুলো সহজ কঠিন দু ধরণেরই রয়েছে। এটাও পরিসংখ্যানের মত না বুঝে পড়লে জটিল লাগবে কিন্তু শুরু থেকে বুঝে বুঝে পড়লে অনেক ইন্টারেস্টিং মনে হবে।

সব বিষয়গুলোর মাঝে পরিসংখ্যান আর অর্থনীতি ভবিষ্যতে কিছুটা কাজে আসবে। আর তুমি যদি তৃতীয় বিষয় হিসেবে ফিন্যান্স নাও তাহলে উচ্চমাধ্যমিকেই অনেক কাজে আসবে কেননা ফিন্যান্সের অনেক বিষয়বস্তুর সাথে পরিসংখ্যান আর অর্থনীতির মিল রয়েছে। এর মানে কিন্তু এইনা যে ঐ বিষয়গুলো অন্য বিষয়ের শিক্ষার্থীরা পারবেনা, এই দুই বিষয়ের শিক্ষার্থীদের একটু সুবিধা হবে এই আর কি।

15050405_10154245728127515_1480955843_n

৩। সাচিবিক বিদ্যা (Secretarial science):

তুমি কলেজে ভর্তি হওয়ার সময়েই দেখবে সিনিয়ররা এবং তোমার কিছু কিছু সমবয়সীও সাচিবিক বিদ্যার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে কারণ চতুর্থ বিষয়ের মাঝে সাচিবিক বিদ্যা সবচেয়ে সহজ, এমনকি তোমার ব্যবস্থাপনা দ্বিতীয়পত্রের সাথেও এর কিছু মিল পাবে। আর সাচিবিক বিদ্যার পেছনে অতটা সময় ব্যয় করতেও হয়না কিন্তু নম্বর অনেক পাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে, চতুর্থ বিষয় হিসেবে সাচিবিক বিদ্যাকে একটা ভাল অপশন বলা যেতে পারে। কিন্তু বেশিরভাগ কলেজে এখন আর সাচিবিক বিদ্যা বিষয়টা নেই কেননা এই যুগে অন্যান্য বিষয়ের তুলনায় ভবিষ্যতে এই বিষয়টা তেমন কোনো কাজে আসেনা।

ফিন্যান্সের অলিগলি থেকে ঘুরে এসে জেনে নাও একটু গোলমেলে কিন্তু দারুণ মজার এই বিষয়টিকে!

৪। অন্যান্য:

একইভাবে গার্হস্থ, কৃষিশিক্ষা কিংবা ভূগোল এবং এধরণের আরো কিছু বিষয়গুলোও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে বিশেষ কোনো কাজে না আসায় বেশিরভাগ কলেজে এই বিষয়গুলো নেই। আর থাকলেও, বিষয়গুলো সহজ কিন্তু আসলে এই দুইটা বিষয় ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থীদের জন্য কোন বেটার অপশন না।

ফিন্যান্স মার্কেটিং দুইটাই নেয়া গেলে?

তবে অনেক কলেজে ফিন্যান্স এবং মার্কেটিং এর মাঝেই একটাকে তৃতীয় এবং অন্যটাকে চতুর্থ বিষয় হিসেবে নির্বাচন করা যায়। সেক্ষেত্রে যদি তুমি এই দুইটা বিষয়ই নির্বাচন কর তাহলে ব্যবসায় শিক্ষার প্রায় সকল বিষয় সম্পর্কেই তোমার ধারণা থাকবে যা ভবিষ্যতে যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় বিষয় নির্বাচনে সাহায্য করবে।

তো এই ছিল উচ্চমাধ্যমিকের চতুর্থ বিষয় নির্বাচনের ব্যপারে একটা ব্রিফিং(একটু লম্বা ব্রিফিং আর কি!)। এরপরও আমাকে যদি প্রশ্ন করা হয় যে, কোন বিষয়টা সবচেয়ে ভাল হবে? তাহলে উত্তর একটাই-  এটা সম্পূর্ণ তোমার পারদর্শিতার উপর নির্ভর করে। মনে রাখবে, পরিশ্রম করলে যেকোনো বিষয়ই সহজ। হ্যাপি লার্নিং! 😀


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?