জৈব রসায়নের সাতকাহন

পুরোটা পড়ার সময় নেই ? ব্লগটি একবার শুনে নাও !

রসায়ন বিষয়ের নামটা যতই রসালো হোক না কেনো, বিষয়টা যথেষ্ট বিভীষিকাময় বলে ধারণা আমাদের ছাত্রদের। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে এই বিভীষিকা সৃষ্টির পেছনে বিশাল ভূমিকা রাখে জৈব যৌগ বা জৈব রসায়ন নামের টপিকটি। কিন্তু বিষয়টা ততটা ভয়ানক থাকে না যদি কিছু বিষয় মাথায় রাখা হয়।

১. স্রোতে গা ভাসিও না :

কেমিস্ট্রির এই জৈব রসায়ন অংশটা নিয়ে নানা ধরণের কথা শুনবে। যুগে যুগে এই বিষয়টা নিয়ে রীতিমতো ভৌতিক উপাখ্যান রচিত হয়ে আসছে। এসবে কর্ণপাত করলে বা হাইপের কারণে ভয় পেলে আদতে নিজেরই ক্ষতি হবে। আত্মবিশ্বাসী হও। তারা পারেনি বলে তুমিও পারবে না, এটা ভুল। নিজের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করতে হবে।

সিলেবাস আর বিক্রিয়ার আধিক্য সামলাতে হবে আত্মবিশ্বাস নিয়ে

২. চাপ বিদেয় করো

পড়তে বসার আগেই জৈব রসায়ন অংশের আকার দেখে ভয় পেয়ে পড়ার ইচ্ছা বিসর্জন দেওয়া যাবে না। জৈব যৌগে অনেক বেশি কিছু পড়তে হয় না। বাইরের বাড়তি জ্ঞান আরোই নিষ্প্রয়োজন। নিজের পাঠ্যবই আর গুরুত্বপূর্ণ কিছু টপিক পড়লেই পরীক্ষায় ভালো করা সম্ভব। তাই এ সংক্রান্ত ইহলৌকিক যাবতীয় চিন্তা বিদেয় দিয়ে পড়তে বসে যাও।

৩. শুধু মুখস্থবিদ্যা নয়

জৈব যৌগ সম্পর্কে আরেকটা বহুল প্রচলিত ধারণা হচ্ছে, সব অন্ধভাবে মুখস্থ করে ফেলতে হবে। এই ধারণা তোমাকে ভুল পথে পরিচালিত করবে। অস্বীকার করার উপায় নেই যে কিছু কিছু বিষয়ের সাথে মুখস্থ করার ব্যাপার আছে, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বুঝে পড়তে হবে। ঢালাওভাবে বিক্রিয়া মুখস্থ না করে বিক্রিয়ার মেকানিজম বুঝে ভেঙে ভেঙে পড়ার অভ্যাস করতে হবে।

ঘুরে এস জৈব রসায়নের জগৎ থেকে!

জৈব রসায়ন এমন একটি বিষয় যেটি অনেকের কাছেই বিভীষিকা-স্বরূপ। সঠিক পদ্ধতিতে জৈব রসায়নের অধ্যায়গুলো পড়লে বিষয়টি অনেক সহজ হয়ে যায়।

তাই আর দেরি না করে, এই প্লে-লিস্টটিতে চলে যাও সঠিক পদ্ধতিতে জৈব রসায়ন শিখতে! 😀

১০ মিনিট স্কুলের রসায়ন ভিডিও সিরিজ

৪. পড়ার অভ্যাস

জৈব রসায়ন বিষয়টাতে সময় দিতে হবে। নিয়মিত রুটিন করে অল্প করে পড়তে হবে। আর বারবার সেসব অনুশীলন করতে হবে। অল্প সময় দিয়ে একবারে সব গলধকরণ করতে চাইলে আখেরে ফল ভালো হবে না কখনোই। জৈব রসায়নে ভালো করতে শুধু মেধা বা দ্রুত আত্মস্থ করার ক্ষমতা কিংবা বুঝে পড়া যথেষ্ট নয়। সময় দিয়ে রুটিন করে পড়তে হবে। সপ্তাহে নির্দিষ্ট কিছু ঘণ্টা শুধু এর জন্য আলাদাভাবে বরাদ্দ রাখো। অনেকে শুধু এর অভাবেই শেষ মূহুর্তে সব পড়তে যেয়ে ভজকট পাকিয়ে ফেলে।

৫. পর্যাপ্ত অনুশীলন

প্রচুর অনুশীলন করতে হবে। এর জন্য অনেক বেশি সমস্যা সমাধান করতে হবে। বিক্রিয়াগুলো ও যৌগগুলো বারবার লিখে লিখে আয়ত্ত্বে আনতে হবে। ক্লাসে শিক্ষকদের পড়ানো এবং বিগত বছরগুলোয় আসা প্রশ্নসমূহ বেশি গুরুত্বের সাথে পড়তে হবে। জৈব রসায়ন বিষয়টা ভালো করতে অনেক উচ্চস্তরের মেধার প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন একটু বেশি পরিশ্রমের।

৬. মেকানিজমে গুরুত্ব দাও

বিক্রিয়া সম্পূর্ণ মুখস্থ না করে এর ভেতরের ক্রিয়াকৌশল বোঝার চেষ্টা করতে হবে। ভেঙে ভেঙে একাধিক ধাপে বিক্রিয়া বোঝার চেষ্টা করো। যা পড়ছ, বা যে বিক্রিয়াটা শিখছ, সেটার সাথে মিল আছে, এরকম বিক্রিয়াগুলো খোঁজার চেষ্টা করো। সেগুলো একসাথে পড়ার চেষ্টা করো। খাতায় আলাদাভাবে লিখে ফেল। বিক্রিয়া মুখস্থ না করে কেন এবং কিভাবে হচ্ছে, এই বিষয়ে গুরুত্ব দাও।

৭. গ্রুপে পড়তে পারো

একটা টপিক হয়তো তুমি খুব ভালো পারছ না বা বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে। তোমার কোনো বন্ধু হয়তো সেটা ভালো পারে। ওর কাছে এটা খুব জলদি বুঝিয়ে নিতে পারবে। তাই গ্রুপ করে পড়তে পারো। আবার ধরো তুমি ভালো বুঝছ, আরেকজনকে যখন সেটা বুঝিয়ে দিতে যাবে, তোমার পড়াটা আরো একবার ঝালিয়ে নিতে পারবে। যার বা যাদের সাথে পড়তে চাও, তারা তোমার থেকে ফাস্ট বা স্লো হলে পার্টনার বদলে ফেল! তবে খেয়াল রাখবে, গ্রুপ থেকে যেন তোমার উপকার হয়, সময় নষ্ট না হয়।

জৈব রসায়ন বিষয়টাকে ভয় পাওয়া চলবে না। আবার একে কম গুরুত্ব দিলেও ঠকবে। নিয়মিত রুটিন করে অল্প অল্প পড়তে হবে। পর্যাপ্ত অনুশীলন করতে হবে। মেধা বা মুখস্থ করার শক্তি নয়, জৈব যৌগে সফলতার মূল সূত্রটা হচ্ছে নিয়মমাফিক পর্যাপ্ত অনুশীলন। রসায়নের এই অংশটুকুকে একটু সময় দাও, ভালোবাসো, আশা করি নিরাশ হবে না!


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
Author

Tawsif Rahman

স্বপ্ন দেখি অনেক বড় হওয়ার ( আক্ষরিক অর্থে!)। চাই কিছু স্মৃতি সংগ্রহ করতে, যা রোমন্থন করে জীবনের শেষ পর্যায়ে আনন্দ পেতে পারি। যা ভালো লাগে করি, যা লাগে না, চাপে পড়ে করে ফেলি! এভাবেই চলে যাচ্ছে, হয়তো চলে যাবে।
Tawsif Rahman
এই লেখকের অন্যন্য লেখাগুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন
What are you thinking?